দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে খনি এলাকা। এই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন খনির আউটসোর্সিং কর্মচারীরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মূল ফটকের সামনে এক ঘণ্টা ধরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে তারা খনি সংলগ্ন এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, আউটসোর্সিং কর্মচারী তোফায়েল হোসেন, লিয়াকত আলী, ফরহাদ হোসেন, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী মাহাবুব এবং ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ গ্রামের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও এরশাদসহ আরও অনেকে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আউটসোর্সিং কর্মচারী তোফায়েল হোসেন বলেন, “২০-২৫ বছর দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছি। কয়লা খনির কারণে জমি অধিগ্রহণের ফলে আমাদের অনেকে বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি বাপ-দাদার কবরস্থান পর্যন্ত হারিয়েছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালের ১৫ মে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সমঝোতা স্মারকের ৮ ধারায় ক্ষতিগ্রস্তদের কয়লা খনিতে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা শিথিল করে চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই এই কোম্পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রেখে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে অবৈধভাবে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, বিসিএমসিএল-এর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী সরকারি নীতিমালা শিথিল করে এবং কর্মরত সব রিটকারীর পক্ষে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব কর্মচারী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে না নিলে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।
এই ঘটনার বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ জানান, আদালতের রায় অনুযায়ী নিয়োগের ব্যাপারে শতভাগ নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এখানে কোনো স্বজনপ্রীতি বা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা ভাইভার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ভাইভাতে যারা কোয়ালিফাই হবেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তারাই নিয়োগপত্র পাবেন।
তিনি আরও বলেন, “যারা আন্দোলনে এসেছে, মানবন্ধন করছে, তারা কেউ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের না।”