চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও দলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় হাসানুজ্জামান নামের এক ছাত্রদল নেতার গায়ে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতানের বিরুদ্ধে। এই আকস্মিক হামলায় হাসানুজ্জামান ছাড়াও আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি চায়ের দোকানে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

আহত হাসানুজ্জামান (৩১) ওই উপজেলার শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় আহত হওয়া অপর দুই ব্যক্তি হলেন ওই এলাকারই সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান আলী (৩২)। ঘটনার পরপরই আহত তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আক্রান্ত ছাত্রদল নেতা হাসানুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযোগ করে বলেন, “রাতে চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলাম। এ সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান বিএনপি ও দলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে দোকানের কেটলিভর্তি ফুটন্ত গরম পানি আমার গায়ে ঢেলে দেন। আমাকে বাঁচাতে গেলে পাশে থাকা সিরাজুল ও হাসানের গায়েও গরম পানি পড়ে। এতে তাদের শরীরও ঝলসে যায়।”

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে এবং দলটির একজন সক্রিয় কর্মী। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সুলতানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “ওই ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”