আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা শত্রুপক্ষের মিত্রদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের জন্য বিএনপির ভেতরে কোনো স্থান নেই। দলের অভ্যন্তরে থেকে কেউ যদি এই ধরনের ব্যক্তিদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা-৮ সংসদীয় অঞ্চলের অন্তর্গত শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও রমনা থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, “এক শ্রেণির লোক নিজেদের কোমরে জোর না পেয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে এবং দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো বাধা নেই, আপনারা রাজনীতি করুন। কিন্তু অপকর্ম করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তা হাত গুটিয়ে বসে দেখবে না, শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।”

এদিকে ভারতে অবস্থানরত কিছু আওয়ামী লীগ নেতার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা শুনছি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের ভেতরকার কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সাফ কথা- বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। দলের ভেতরের কেউ যদি এদের সহযোগিতা করেন, আমাদের জানাবেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাদ মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সোহাগ ভূঁইয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।