লিওনেল মেসি দলে না থাকলেও আর্জেন্টিনার গোল করার ক্ষুধায় কোনো ঘাটতি ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে পরাজিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে এই বিশাল জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।

বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল একতরফা। দীর্ঘ ভ্রমণজনিত জটিলতার কারণে ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে সক্ষম হয় বুরকিনা ফাসো। ফলে তারা মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে মাঠে নামে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি।

খেলার চতুর্থ মিনিটেই লিড নেয় স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। আগুস্তিন জিয়াইকে ফাউল করায় পেনাল্টির সুযোগ পায় তারা। লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টিটি নেন; প্রথম শটটি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলটি জালে পাঠাতে দেরি করেননি ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড।

এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় সের্হিও আগুয়েরোর ৪২ গোলের রেকর্ডের পাশে এসে দাঁড়ালেন লাউতারো।

এর চার মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেসের একটি প্রচেষ্টা রুখতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন বুরকিনা ফাসোর মৌমুনি দিয়ালো।

ম্যাচের ১২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ হয়ে যায়। লাউতারোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি প্রথম ছোঁয়াতেই জোরালো শটে বল জালে পাঠান। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

প্রথম তিন গোল করার পরও থামেনি আর্জেন্টিনার আক্রমণ। ৩৫ মিনিটে নিকো পাজ নিজের প্রথম প্রচেষ্টার ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। এর মাত্র এক মিনিট পরেই বুরকিনা ফাসোর জালে আবারও বল জড়ায়। এবার প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ।

বিরতির আগেই ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে কিছু পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ৫৭ মিনিটে ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো ব্যবধান ৬-০ করেন। লাউতারোর পাস থেকে গোলরক্ষকের সামনে সুযোগ পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটিও ছিল মাস্তান্তুয়োনোর প্রথম গোল।

এরপর ম্যাচের গতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। আর্জেন্টিনা একের পর এক খেলোয়াড় পরিবর্তন করে নতুনদের সুযোগ দেয়। ৭০ মিনিটের আগেই লাউতারো এবং এনজো ফার্নান্দেজসহ বেশ কয়েকজনকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেন স্কালোনি। তাদের পরিবর্তে মাঠে আসেন জিউলিয়ানো সিমিওনে, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস ও ভালেন্তিন বারকোর মতো ফুটবলাররা।

সপ্তম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ইনজুরি টাইম পর্যন্ত। ৯০+৩ মিনিটে বারকোর ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন জিউলিয়ানো সিমিওনে। তার এই গোলেই ৭-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

উল্লেখ্য, এই ম্যাচেও লিওনেল মেসি খেলেননি। বলিভিয়ার বিপক্ষে আগের প্রীতি ম্যাচেও তাকে বিশ্রামে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। তার জন্য রাখা হয়েছে আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার কথা মেসির।