পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আলমগীর প্রধান (৪৮) নামে একজন স্কুলশিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘর্ষে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তন্ময় নামের একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ-সোনাহার সড়কের স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’-এর প্রধান ফটকের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আলমগীর প্রধান দেবীগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জবিলাসী মণ্ডলপাড়া এলাকার খয়বর আলী প্রধানের পুত্র। তিনি পেশায় রামগঞ্জবিলাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহত অন্য দুজন হলেন সৈকত ও তন্ময়। সৈকত দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে এবং তন্ময় কাচাড়ীপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তন্ময়ের চালানো মোটরসাইকেলটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। একপর্যায়ে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে প্রচণ্ড জোরে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে তিনজন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের তীব্রতায় তন্ময়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির সামনের অংশ এবং হেডলাইট সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তন্ময়কে প্রায়ই ওই এলাকায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যেত।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আজাদ রহমান জানান, আলমগীর প্রধানকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দুজনের মধ্যে তন্ময়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, “মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”