বিশ্বজুড়ে আইনসভার কার্যবিবরণী এবং রাজনৈতিক ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে এআই-এর তৈরি বিষয়বস্তু ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই-এর এই ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে 'প্যাংগ্রাম' নামক একটি আধুনিক এআই ডিটেকশন টুলের সহায়তায়। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উচ্চারিত প্রতি ১০টি শব্দের একটির পেছনে এআই-এর কারসাজি রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে এই হার ছিল প্রায় শূন্য। তবে মজার বিষয় হলো, অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের বক্তব্যে এআই ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও, সবচেয়ে বেশি এআই ব্যবহারকারী আইনপ্রণেতাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অথবা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য নিল শাস্ত্রী-হর্টসের গত এক বছরের সংসদীয় বক্তব্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এআই দিয়ে লিখিত বলে শনাক্ত হয়েছে। যদিও ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা এই প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে আছেন, তবে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সংসদ সদস্যরা তাঁদের চেয়েও বেশি এআই ব্যবহার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরাও এই দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই।
অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, চ্যাটবট বা এআই টুলগুলো প্রায়ই গতানুগতিক শব্দগুচ্ছ বা স্লোগান তৈরি করে, যা রাজনৈতিক বক্তব্যের মৌলিকতাকে নষ্ট করছে। পাবলিক ফার্স্ট নামক কনসালটেন্সির একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, রাজনীতিবিদদের এআই দিয়ে বক্তৃতা বা নীতিপত্র লেখানোর বিষয়টি সাধারণ ভোটাররা তীব্রভাবে অপছন্দ করেন। ভোটারদের দাবি, জনপ্রতিনিধিরা যখন নিজস্ব চিন্তার বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করেন, তখন তা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণবন্ত সংলাপ ও প্রতিনিধিত্বের মূল ধারণাকে দুর্বল করে দেয়। এর বিপরীতে কিছু রাজনীতিবিদের যুক্তি, এআই তাঁদের দ্রুত গবেষণা সম্পন্ন করতে এবং ভোটারদের সেবায় বাড়তি সময় ব্যয় করতে সাহায্য করে। তবে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে রোবোটিক নির্ভরতা ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।