আগামী ৫ অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম। এরপরই নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বা পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ বিভাগে আবেদন করেছেন।

অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। অক্টোবরের বেতন নতুন কাঠামোয় নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে, যা নভেম্বরের শুরুতে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া অর্থও একসঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বেতন কার্যকর করার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে হবে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অমিল থাকলে পে-ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং বিভাগভিত্তিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করবে অর্থ বিভাগ।

নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে কোনো স্থায়ী কর্মচারী পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পুনরায় একই পদে আরও ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে আগের বেতন কাঠামোয় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকলে নতুন পে-স্কেলে ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে যদি একজন কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকেন, তবে পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এ কারণে পে-ফিক্সেশনের সময় বর্তমান মূল বেতনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর আগের উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাস যাচাই করা হবে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হবে।

নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধার আওতায় পেনশনভোগীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।