এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জয় করল শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। এর আগে ভারত ও মেয়েদের দল সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও সোনা জিতেছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল তারা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা সেট করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। বড় রান তাড়া করে জেতার ইতিহাস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের নেই, আর এই ফাইনালেও সেই ধারা বদলাতে পারেনি সাহিবজাদা ফারহানের দল।
ভারতের হয়ে শুরুতেই ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ২০ বলে ফিফটি করে তিনি ২৮ বলে ৬১ রান করেন, যাতে ছিল ৩টি চার ও ৭টি ছক্কা। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৭.৮৬। দ্রুত রান তুলতে সহায়তা করেন বৈভব সূর্যবংশী, যিনি ৯ বলে ১৫ রান করেন। পাওয়ার প্লেতে ৮১ রান তুললেও মিডল ওভারে কিছুটা খেই হারিয়েছিল ভারত। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে ২১ রান এবং ইশান কিষান ১৮ বলে ২০ রান করেন। সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২ রান করে আউট হন।
১৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৪২ রান। তবে শেষ দিকে তিলক বার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিলক, যার মধ্যে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩১.৮২। অলরাউন্ডার শিবম দুবে ১৫ বলে ২৭ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ ৩ ওভারে ভারত ৫৭ রান যোগ করে মোট ২১১ রান তোলে।
রান তাড়ায় ধীরগতির শুরুই হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের জন্য বাধা। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলতে পারে মাত্র ৩৯ রান। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচটিকে জমিয়ে তোলেন হাসান নেওয়াজ। ৫০ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, তবে শেষ বলে শিবম দুবের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এছাড়া সাইম ২৯ রান করেন।
ম্যাচের বাইরে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায় টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে। ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান টসের সময় হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন দেখা যায়নি, যা সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২১১/৬ (অভিষেক ৬১, তিলক ৫১*; আরাফাত ২/২৫, দানিয়াল ২/৪৩)
পাকিস্তান: ১৯২/৬ (হাসান ৯৬, সাইম ২৯; অক্ষর ২/২৯, সুন্দর ২/২৯)
ফলাফল: ভারত ১৯ রানে জয়ী।