ইসরায়েলের তেল আবিবে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফ্লাইদুবাই। গত বুধবার তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজের ককপিটে পাইলটের ওপর সহকর্মীর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গাইথ আল গাইথ গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ রুটে (দুবাই–তেল আবিব) উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।"
সিইও আরও জানান, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হচ্ছে এবং তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার, যখন ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড–১০৭৩ উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার পর জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করানো হয়। গাইথ আল গাইথ নিশ্চিত করেছেন যে, ওই উড়োজাহাজের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ককপিটে হামলাকারীকে প্রতিহত করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ক্যাপ্টেন ও অন্যান্য পাইলটদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিইও। পাশাপাশি সহায়তা করা কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রী ও ক্রুদের গন্তব্যে ফিরিয়ে নিতে সহায়তার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গাইথ আল গাইথ।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সিইও। তিনি বলেন, "ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ কী ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।"
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে একটি কলহের ঘটনা ঘটেছিল, যা পরে ক্রুরা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে নিয়ে যান। এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার—দুজনই আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ককপিটের ওই ঘটনার পেছনে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে বিশদ তদন্ত করা হবে।