ময়মনসিংহ শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে সাতজনকে হত্যা করা রাজীব পরিবহনের বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। নিহতদের সবাই জামালপুরের বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছে। তারা হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম, তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন, মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার ও মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনান। অন্য তিনজন হলেন একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী, বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগম।

দুর্ঘটনার পর ওই দিন রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে প্রতীকী মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজা করেন স্থানীয়রা। স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার সকালে পৃথক জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চলাচলের জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় দেড় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জনের প্রাণ গেছে এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসচালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যান। মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারিয়ে জামালপুরের দড়িহামিদপুর গ্রামের মো. মোবারক আলী বাদী হয়ে রাতে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার পর অজ্ঞাতপরিচয় বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা নথিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ এখন তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।