ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জুমার নামাজ পড়তে বের হয়েছিলাম। হেঁটে মসজিদে যাওয়ার পথে হঠাৎ দেখি দ্রুতগতিতে আসা রাজীব পরিবহনের একটি বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। তখন দেখি পাঁচজন মারা গেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় এক শিশু ও এক নারীকে বের করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারাও মারা যান।"
প্রত্যক্ষদর্শী আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, তিনিও মসজিদে যাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা বাসটি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় অটোরিকশার ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের বাসটি জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সাথে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তার মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তারা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, "দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি নিয়ে চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। তবে চালক ও তার সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে।"
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিআরটিএর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, "চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় দেড় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন।"
দুর্ঘটনার পর আকুয়া বাইপাস সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যান চলাচল চালু করে।