নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন সুমন মিয়া নামের এক যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত দোকানি ইব্রাহিম খলিল উপজেলার চেংজানা গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে। গুরুতর দগ্ধ হয়ে তিনি বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগুনে খলিলের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা, যাকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদিদোকান পরিচালনা করেন। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বোতলে করে পেট্রলও বিক্রি করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমন মিয়া দোকানে এসে বাকিতে একটি সিগারেট চান। দোকানদার এতে রাজি না হলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা বোতল থেকে পেট্রল নিয়ে দোকান ও তার চারপাশে ছিটিয়ে দেন। এরপর গ্যাসলাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে বোতলটি ইব্রাহিমের দিকে ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ইব্রাহিমের ভাই লাদেন মিয়া আজ শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। অবস্থা সংকটাপন্ন।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৬ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সুমন মিয়া বোতল হাতে নিয়ে দোকানের সামনে পেট্রল ছিটাচ্ছেন এবং আগুন ধরিয়ে দ্রুত দৌড়ে চলে যাচ্ছেন। এসময় ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে গেলে তিনি বাঁচার জন্য দোকান থেকে বেরিয়ে দৌড়ান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"