চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে থানার সামনেই এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ইসমাইল হোসেনকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করেছে।

মারধরের শিকার পুলিশ সদস্য মো. শফিক সীতাকুণ্ড থানার গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে মো. ইসমাইল তাঁর প্রাইভেট কার নিয়ে সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় আসেন। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় যুবদলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী ছিলেন। ইসমাইল তাঁর গাড়িটি থানার ফটকের সামনে পার্ক করে সেখান থেকে চলে যান এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর পুনরায় ফিরে আসেন।

গাড়িটি কেন থানার সামনে রাখা হয়েছে, তা জানতে চান কনস্টেবল মো. শফিক। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন না। এই প্রশ্ন শুনেই ইসমাইল তাঁর ওপর চড়াও হন এবং পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে মারধর করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ইসমাইলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

ইসমাইল আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহবুদ্দিন রাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। চার ঘণ্টা দীর্ঘ এই বৈঠকের পর বিএনপির কয়েকজন নেতার জিম্মায় মুচলেকার বিনিময়ে ইসমাইলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "থানার ভেতরে গাড়ি রাখা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে কনস্টেবল শফিককে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেনকে আটক করা হয়েছিল। মূলত ভুলবোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।"

তিনি আরও জানান, "ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ সময় ইসমাইল হোসেন সবার সামনে ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কিছু করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।"

এদিকে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ইসমাইলকে বহিষ্কার করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগে ইসমাইলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইসমাইলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইসমাইল হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁর পরিবারের এক সদস্য জানান, ইসমাইল বাসায় নেই। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা রিসিভ করেননি।