টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সম্মানজনক আকিরা কুরোসাওয়া পুরস্কারে ভূষিত হতে যাচ্ছেন জাপানি নির্মাতা ও মিপো এবং ইরানি চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ রাসুলফ। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উৎসবের ৩৯তম আসর। এবারের পুরস্কার নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন নির্মাতা ইয়ামাদা ইয়োজি ও লি সাং-ইল, চিত্রগ্রাহক আশিজাওয়া আকিকো এবং উৎসবের প্রোগ্রামিং ডিরেক্টর ইচিয়ামা শোজো।
ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব আর্টস থেকে পড়াশোনা শেষ করে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন ও মিপো। ২০০৬ সালে 'দি সাকাইস হ্যাপিনেস' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালনায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে, যার চিত্রনাট্য সানড্যান্স/এনএইচকে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্মমেকার্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। ২০১৪ সালে তাঁর নির্মিত 'দি লাইট শাইনশ অনলি' সিনেমাটি মন্ট্রিল ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পরিচালকের পুরস্কারসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ৬০টি পুরস্কার অর্জন করে। নির্বাচক কমিটির মতে, ও মিপো সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনকে কেবল সাদা-কালো নৈতিকতার ছকে ফেলেন না, বরং তাঁদের অস্তিত্বকে বহুস্তরীয় মানবিক বাস্তবতায় ফুটিয়ে তোলেন।
অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের পর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত হন মোহাম্মদ রাসুলফ। ২০০০ সাল থেকে তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তাঁর সিনেমার মূল উপজীব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্তৃত্ববাদী বাস্তবতার মাঝে মানুষের নৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত দায়বোধ এবং স্বাধীনতার প্রশ্ন। রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ, কারাদণ্ড ও নিষেধাজ্ঞার বাধা উপেক্ষা করে গেরিলা কায়দায় চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে গেছেন তিনি। ২০২০ সালে 'দেয়ার ইজ নো ইভিল' চলচ্চিত্রের জন্য বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণ ভালুক জয়ের পর তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে 'দি সিড অব দি স্যাকরেড ফিগ' চলচ্চিত্রটি কান উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায় এবং সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করে। নির্বাচক কমিটির ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মাঝে মানবাধিকারের সংকটকে কেন্দ্র করে রাসুলফ ধারাবাহিকভাবে গভীর জীবনমুখী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ও মিপো জানান, পরিচালনার ২০তম বছরে এসে এমন সম্মাননা পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত বিনয়ের বিষয়। এর আগে শিন্দো কানেতো অ্যাওয়ার্ড তাঁকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি সহকর্মী, দর্শক, নির্বাচক কমিটি ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ রাসুলফ এই সম্মাননাকে এক বিরাট অর্জন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "কুরোসাওয়ার চলচ্চিত্রগুলো মানব অস্তিত্ব এবং সংকটকালে আমাদের নেওয়া নৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর এক গভীর অনুসন্ধান।"
পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি উৎসবে আকিরা কুরোসাওয়ার নিজস্ব কিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র এবং তাঁর প্রিয় কিছু সিনেমা প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনী তালিকায় রয়েছে নতুনভাবে ফোর কে রেস্টোরেশন করা কুরোসাওয়া নির্মিত 'সানশিরো সুগাতা' ও 'ইকিরু'। এছাড়া চার্লি চ্যাপলিন পরিচালিত 'দ্য সার্কাস' এবং আব্বাস কিয়ারোস্তামি পরিচালিত 'হয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হাউস' প্রদর্শিত হবে।