মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণিকক্ষে ঢুড়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও আছাড় দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. হাবিব (১২)। সে বিদ্যালয়ের ‘গোলাপ’ শাখার শিক্ষার্থী এবং রামানন্দ এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত নাহিদ শেখ (৩৫) পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের প্রয়াত আবদুজ জব্বার শেখের ছেলে। তিনি আটককৃত শিক্ষার্থী আতিকুর রহমানের ফুফাতো ভাই।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসে থাকাকালীন নাহিদ শেখ ক্লাসে প্রবেশ করেন। তিনি হাবিবকে বেঞ্চ থেকে টেনে হিঁচড়ে নিচে ফেলেন, তার ঘাড় ধরে মারধর করেন এবং দুই হাতে তুলে একাধিকবার আছাড় দেন। এ সময় তিনি ছাত্রটিকে কিল-ঘুষিও মারেন। শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে আসেন।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গোলাপ’ শাখার শিক্ষার্থী আতিকুর ও হাবিবের মধ্যে ঝগড়া হয়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। বৃহস্পতিবার প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলে নাহিদ শেখ ক্লাসে ঢুকে হাবিবের ওপর হামলা চালান।

প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, শিক্ষকেরা নাহিদ শেখকে ক্লাসে প্রবেশ করতে দেখলে তাঁকে প্রশ্ন করেন। নাহিদ শেখ বলেছিলেন যে তিনি তাঁর ফুফাতো ভাই আতিকুরের সাথে দেখা করতে এসেছেন। কিছুক্ষণ পর হাবিবের কান্নাকাটির খবর পেয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন এবং ঘটনাটি প্রমাণিত হয়।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, "বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটবে, তাঁরা ভাবতেও পারেননি। তাঁরা এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চান।" তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল বিদ্যালয় ছুটির পর আতিকুর কান্নাকাটি করছিল। তিনি তাকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করে বিষয়টি মীমাংসা করেছিলেন।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গতকাল দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে আজ সকালের ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।"

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হতে পারে এবং তা মীমাংসাও হয়ে যায়। তবে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ না করে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে অন্য শিক্ষার্থীকে মারধর করা লজ্জাজনক। অভিভাবকের এমন কাজ ঠিক হয়নি।