গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বড় ব্রিজের নিচে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহতদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহিদুল শিকদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। এছাড়া নজরুল, নাফিস, ইয়াছিন ও রয়েল শিকদারকেও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিছু আহত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন গোপালপুর গ্রামের নজরুল শিকদার (৫০), নাফিস শিকদার (২২), ইয়াছিন শিকদার (২৪), রয়েল শিকদার (২১), আকবর শিকদার (৪২) ও বাদল শিকদার (৪৭)। অন্যদিকে মুজাফফর শিকদার, পলাশ শিকদার, শহিদুল শিকদার, আলামিন শিকদার এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু শিকদার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুই দিন আগে পলাশ শিকদারের সঙ্গে কয়েকজনের কথাকাটাকাটি ও গালাগালের হয়। এর প্রতিবাদ করায় হামলায় কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তবে সংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। আহত বাদল শিকদারের বোন ছাবিকুননাহার অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার পলাশ শিকদারসহ তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে গুরুতর আহত করেন। অন্যদিকে পলাশ শিকদারের দাবি, নজরুল শিকদারসহ অপর পক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে গুরুতর আহত করেছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এমডি নাঈম হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আহতদের জখমের স্থানে সেলাই করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে কয়েকজনকে গোপালগঞ্জে রেফার করা হয়েছে।"

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এ ঘটনায় এক পক্ষের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"