হবিগঞ্জে মোটর মালিক গ্রুপের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া প্রদান করেও বিকল্প যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না, যা আশপাশের জেলা ও দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে হয়েছে। অনেকেই বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তা সফল হচ্ছে না।
টার্মিনালে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ, চাকরি বা ব্যবসার প্রয়োজনে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তারা টার্মিনালে উপস্থিত হলেও বাস না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু দিন পরপর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে বাস ধর্মঘটের কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহন বেছে নিতে হয়, কিন্তু বেশি ভাড়া দিয়েও সঠিক সময়ে বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা হয় না।
মৌলভীবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে শহরে এসছিলেন ইমদাদুল মিয়া। তিনি বলেন, "হঠাৎ করে ধর্মঘটের কারণে গন্তব্যে যেতে পারছি না। আগে থেকে কোনো ঘোষণা থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এভাবে হঠা বাস বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।"
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারগামী বাস চলাচলে বাধা দিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি বাস আটকে রাখা, ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে তাদের অভিযোগ।
গ্রুপের নেতারা জানান, সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেন মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকরা। ওই সময় মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখা হয় এবং বাসের শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মইন চৌধুরী সোহেল বলেন, "গত ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের মালিক সমিতি হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি বাস আটক করে এবং শ্রমিকদের মারধর করে। এর প্রতিবাদে থেকে আমাদের ধর্মঘট চলছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।"