ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করেননি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ডিবি কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ জুয়েলের পরিবারের এক সদস্য জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত জুয়েল। তার ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস দিতে তারা ডিবি কার্যালয়ে গেলেও কার্যালয়ের ভেতরে তিনি আছেন কি না, সেটা তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।

পারিবারের সদস্যদের দাবি, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ জুয়েল একাধিকবার বাউফল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ২২ মে তিনি প্রথম বাউফল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেন। পরবর্তী সময়ে পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে আবার পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা এবং পৌরসভাজুড়ে সোডিয়াম লাইট স্থাপনসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করায় এলাকায় দলমত নির্বিশেষে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হন। বাংলাদেশ পৌরসভা মেয়র সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েলের আমেরিকা প্রবাসী এক আত্মীয় জানান, দেশের প্রতি মমত্ব ও মানুষের ভালোবাসার কারণেই তিনি সুযোগ থাকার পরও দেশ ছেড়ে পালাননি। জুয়েল বলতেন, তিনি কোনো দিন অন্যায় করেননি, অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দেননি। তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সব রাজনৈতিক কারণে। কাজেই তিনি দেশ ছেড়ে পালাবেন না। আইনের মুখোমুখি হয়ে এসব মোকাবিলা করবেন।