কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই কক্ষে তার দুই বছরের শিশু সন্তানও ছিল, তবে শিশুটি অক্ষত রয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে নিহত কুলসুমা আক্তারের (২৮) মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকার আলমের মেয়ে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক যুবক কুলসুমা ও তার দুই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে হোটেলের ওই কক্ষে ওঠেন। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং রেজিস্টারে ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা ঠিকানা লিখিয়ে নেন। পরদিন সকালে কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হোটেলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ পান। কক্ষে ঢুকে তিনি ওয়াশরুমে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য তা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা যুবকটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি; তিনি ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, হোটেলে থাকা যুবকটি কুলসুমার স্বামী হারুন নন। পরিবারের কেউ তাকে চিনতে পারেননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুলসুমার স্বামী হারুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান ছিল, যাতে হাজিরা দিতে কুলসুমা কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, "কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা যুবকটি তার স্বামী নন। তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।" তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।