ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা এবং পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে প্রসবব্যথার কারণে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন, যার মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকা মণ্ডলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ শনাক্ত করেন এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বের করেন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৯ আগস্ট রাতেই কনিকা মণ্ডলের মৃত্যু হয়।
মৃতার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় হাসপাতালের ওটি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। তবে প্রতিবেদনে ঠিক কী কী অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তার বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময় মন্ত্রী ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
এই ঘটনায় হাসপাতালের অস্ত্রোপচার ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় গণনা ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ত্রুটি কীভাবে ঘটল, তা তদন্তের আওতায় এসেছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা হাসপাতালের বিষয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেলে সমরিতা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”