গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রাম থেকে গত ২ আগস্ট তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। প্রায় দুই মাস পার হওয়ার পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন—চাঁদপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তনা বেগম (৪৫), বড় মেয়ে জিনাত আকতার (২৫), জান্নাতুল মাওয়া আরশ (১২), সাজ্জাদুর রহমান সানি (৮) এবং আড়াই বছর বয়সী নাতনি হুজাইফা খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই এই পাঁচজন নিখোঁজ। ওই দিন রাতে সাইফুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তাদের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের পর তিনি বাড়িতে থাকা নগদ ৮১ হাজার টাকা, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও কিছু আসবাবপত্রও খুঁজে পাননি। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, নিখোঁজের ঘটনায় গত ৫ আগস্ট তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ জিডি না নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও পুলিশের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। তার দাবি, রাজনৈতিক চাপের কথা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি নেয়।

অন্যদিকে, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে—স্বজনদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচজনকে খুঁজে বের করতে দেশের সব থানায় তাদের ছবি ও পরিচয়সংবলিত বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।"

তিন শিশুসহ পাঁচজনের সন্ধান দুই মাসেও না পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।