ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটকে আবারও আগের নামফলক স্থাপন করা হচ্ছে। ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা নামফলকটি সরিয়ে সেখানে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা নামফলক বসানো হবে। আজ বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটক থেকে শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হলটির নাম শহীদ ওসমান হাদি হল করার দাবি উঠলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ কারণে হলের ফটকে আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।"

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মাসে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হলের প্রধান ফটকের পুরোনো নামফলক সরিয়ে সেখানে শহীদ ওসমান হাদি হল লিখে দেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ব্যবহার করে হলের নামফলক পরিবর্তনের এই কাজ করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল করার সুপারিশ করা হয়। একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এসব সুপারিশ সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে কাজী নজরুল ইসলাম হল করার দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।