বিজিবি কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন সীমান্ত ব্যাংক ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ‘সীমাহীন আস্থা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি বিজিবি সদস্যসহ সাধারণ জনগণকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। উন্নত গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন প্রান্তের সব গ্রাহককে সমানভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তা, কৃষি ও নারী উদ্যোক্তাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সেবা প্রদান করছে ব্যাংকটি। ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোক্তা লাভজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন।
সীমান্ত ও দুর্গম অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার ক্ষেয়ে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। মো. নুরুল আজীম বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকের অনেক শাখা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আছে। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার নেটওয়ার্কে যুক্ত করছি। এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন। ছোট ছোট ঋণের মাধ্যমে আমরা তাঁদের উদ্যোগগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি এবং তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন। এ ধরনের ঋণখেলাপি হওয়ার হার খুবই কম। তাঁরা সময়মতো ঋণের কিস্তিগুলো পরিশোধ করছেন। সীমান্ত অঞ্চলের অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আমাদের সহায়তায় তাঁদের ব্যবসাকে বড় করেছেন।’
খেলাপিমুক্ত ও অনুশাসনমুখী ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সীমান্ত ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতি অনুসরণ করে। ঋণ অনুমোদনের পর তা নিয়মিত তদারকি করা হয়। কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো আবেদনকারী যদি প্রয়োজনীয় দলিল ও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তবে ঋণ প্রদানে বিরত থাকে ব্যাংক।
প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘কানেক্ট’ উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার (বিএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি), এমএফএস ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল প্রদান, ডিপিএস ও ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা, যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, টিউশন ফি প্রদানসহ নানা সেবা গ্রহণ করা যায়। খুচরা গ্রাহকের জন্য ‘কানেক্ট’ ও করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ‘কানেক্ট প্লাস’ নামে দুটি আলাদা অ্যাপ রয়েছে। এ ছাড়া ২৪/৭ কল সেন্টারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমারদের সেবা প্রদান করা হয়।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থায়ন সহজ করতে সীমান্ত ব্যাংক বিভিন্ন ঋণসেবা চালু করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ‘আস্থা’ ও ‘দিশারী’, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ ‘সীমান্ত প্রেরণা’, প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সীমান্ত প্রান্তিক উদ্যোগ’ ও ‘নারী শক্তি’ নামক ঋণসেবার মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। যশোর জেলার গদখালীতে শাখা স্থাপন করে ফুলচাষিদের ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চম্বকনগর ও কুষ্টিয়ার প্রাগপুরে শাখা স্থাপন করে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল আমানতকারীদের তথ্যের সুরক্ষায় ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, শক্তিশালী প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা, তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ডেটা ব্যাকআপ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার ঘটনার দ্রুত শনাক্তকরণ ও মোকাবিলার সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মেলবন্ধনে একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক ব্যাংক হিসেবে সীমান্ত ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্ষদ সভায় অনুমোদিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকের সার্বিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আমানত ও ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণে উন্নীত করা, ক্রেডিট কার্ড, বাংলা কিউআর এবং ঋণ শ্রেণীকরণ ন্যূনতম মাত্রায় রাখার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক। সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি ও টেকসই অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকিং সেবাকে আরও বৃহৎ পরিসরে সরাসরি গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।