বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা অংজাই পাড়ার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইসাংথুই মারমা। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় পড়াশোনা করছেন তিনি। প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির বড় স্বপ্ন হলো, ভবিষ্যতে একজন দক্ষ নার্স হয়ে গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করা।
নাইসাংথুইয়ের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। প্রতিদিন আঁকাবাঁকা ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া তার জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘ পথ এবং যাতায়াতের সমস্যার কারণে নিয়মিত ক্লাসে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।
যাতায়াতের ঝামেলা কমানোর লক্ষ্যে নাইসাংথুই এখন কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার ছাত্রাবাসে অবস্থান করছেন। এতে করে তার দৈনন্দিন কষ্টকর যাত্রা অনেকটাই সহজ হয়েছে। ছাত্রাবাসে থেকে নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছেন।
নাইসাংথুইয়ের বাবা একজন জুমচাষি। জুম চাষের ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চলে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও মেয়ের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাইসাংথুইয়ের স্বপ্ন শুধু নিজের উন্নতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ভবিষ্যতে একজন দক্ষ নার্স হিসেবে নিজের গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা যাতে প্রয়োজনের সময় উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেই লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি।
দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত আর্থিক অবস্থা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নাইসাংথুইয়ের স্বপ্ন এগিয়ে চলছে। অংজাই পাড়ার এই মেয়েটির চোখের স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে—এমন আশাবাদই ব্যক্ত করছেন তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।