‘ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ব। ভালো করে পড়াশোনা করে মা–বাবার গর্ব হবো। সৎ, দক্ষ ও সুনাগরিক হবো’—কথাগুলো লিখেছে কৃতী শিক্ষার্থী আমির হানজালা। আরেক শিক্ষার্থী জারা জোসি লিখেছে, ‘একজন সৎ মানুষ হতে চাই’। একই সঙ্গে মায়ের সব স্বপ্ন পূরণ এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোই এখন বড় উদ্দেশ্য বলে জারার লেখনিতে উঠে এসেছে।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে দেশের ৬৪ জেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলছে মুক্তকণ্ঠের আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় জিপিএ-৫ উৎসব। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা অঞ্চলের জিপিএ-৫ উৎসব চলছে আজ মঙ্গলবার। আগামীকাল বুধবারও এই উৎসব চলবে। এ আয়োজনে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা পর্বের প্রথম দিনের আয়োজনে আজ ঢাকা জেলার প্রায় ১০ হাজার কৃতী শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সাভারের আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

‘নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে যে তিনটি কাজ তুমি করতে চাও’-এ নিয়ে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের লিখতে বলা হয়েছে। তাতেই হানজালা ও জারা নিজের মনের কথাগুলো লিখেছে। পরে তা দেওয়ালে সাঁটিয়েও দিয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই চোখে পড়ে মুক্তকণ্ঠের স্টল। যেখানে ভিআর গেম, স্পিন ঘুরিয়ে কিশোর আলো, বিজ্ঞানচিন্তাসহ নানা পুরস্কার জেতার সুযোগ, পিরামিড গেম, কুইজসহ নানা আয়োজন রয়েছে কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য। সারি ধরে অপেক্ষা করে সেসবে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।

সেখানে স্টল সাজিয়ে নানা আয়োজন রেখেছে পৃষ্ঠপোষক শিখো। স্টল রয়েছে কিশোর আলো, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রথমা প্রকাশন, মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা, মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি, আম্বার আইটি, বিকাশ, ফ্রেশ বিস্কিট এবং সেভয় আইসক্রিমের। এসব স্টলে নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উপহার পাচ্ছে।

একসঙ্গে সংবর্ধনা নিতে এসেছে দুই বন্ধু ইফতেশাম ইসলাম ও জালাল আকবর ইউসুফ। দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখন রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে ভর্তি হয়েছে। কথায় কথায় জানাল, মুক্তকণ্ঠের এমন আয়োজন তাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সাফল্য উদ্‌যাপন ও সামনে ভালো করার উৎসাহের জোগানদাতা।

মা তামান্না ফারহানার সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছে ফাইজা মাহজাবিন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তামান্না বলেন, ‘মোহাম্মদপুরে থেকে এখানে এসেছি। অনেক কষ্ট হয়েছে। তবে এখানকার আয়োজন দেখে এখন আর কষ্টটাকে কষ্ট মনে হচ্ছে না।’

মেয়েকে নিয়ে স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তামান্না বললেন, ‘আমি চাই মেয়ে সবার আগে ভালো মানুষ হোক। যেন দেশের জন্য, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য ভালো কাজ করতে পারে।’

মালিবাগ থেকে মেয়ে শাহরীন আফরিন রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সাদিয়া আফরিন। এই মা বলেন, সাফল্যের এমন উদ্‌যাপন মেয়েকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার উৎসাহ দেবে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন মো. কামরুল আহসান। থাকেন রাজধানীর খিলগাঁওয়ে। সেখান থেকে মেয়ে আনিকা নাওয়ার আহসানকে নিয়ে এসেছেন। মেয়েকে ভর্তি করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। কামরুল বলেন, ‘আশা করছি, আমার মেয়ে ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সবাইকে সহায়তা করবে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় ভূমিকা রাখবে।’

দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের গান-আড্ডায় মাতিয়ে রাখতে থাকছেন অভিনয়শিল্পী সিয়াম আহমেদ, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, ইয়াশ রোহান, সংগীতশিল্পী দোলা রহমান, ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। সঞ্চালনায় আছেন মুক্তকণ্ঠের সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন।

শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের আনন্দ একসঙ্গে উদ্‌যাপন করতে আরও থাকছেন বিশিষ্টজনেরা। আজকের উৎসবে থাকছেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ও ‘আয়রনম্যান’ মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত, শিখোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহীর চৌধুরী, মুক্তকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ প্রমুখ।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা।

ঢাকা অঞ্চলের উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার ১০ হাজারের বেশি কৃতী শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেবে।