তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত তখন জয়ের দিকে ছুটছে। আলজারি জোসেফের একটা লাফিয়ে ওঠা বলকে অবলীলায় মিডউইকেটের দিকে পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠালেন বিরাট কোহলি। একই সঙ্গে পা রাখলেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক দুর্লভ অভিজাত ক্লাবে। শচীন টেন্ডুলকারের পর ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে কোহলি স্পর্শ করলেন ১৫ হাজার রানের মাইলফলক।

এখানেই থেমে থাকেননি কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যান। পরে পেয়ে যান নিজের ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও। ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের তাণ্ডবী এক ইনিংসে ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। কোহলির এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে শুবমান গিলের আরেকটি সেঞ্চুরি মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য ভারত পেরিয়ে যায় মাত্র ৪১.৪ ওভারে, ২ উইকেট হারিয়েই।

১০৮ বলে ১৩টি চার ও ১ ছক্কায় ১১০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস উপহার দেন গিল। ওয়ানডেতে এটি তাঁর ১০ম সেঞ্চুরি। উদ্বোধনী জুটিতে রোহিত শর্মাকে (৩২) সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ৭৪ রানের ভিত্তি। এরপর রোহিত বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে ১৫১ রানের বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচ সম্পূর্ণ ভারতের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন দুজন।

তবে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচটা স্রেফ কোহলির। ২০২৫ সালের অক্টোবরেই কুমার সাঙ্গাক্কারাকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ১৪২৪৩ রান নিয়ে তিন নম্বরে থাকা লঙ্কান কিংবদন্তির পথটা কোহলি অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছেন। ১৩৭০৪ রান নিয়ে চারে রিকি পন্টিং, ১৩৪৩০ রান নিয়ে পাঁচে সনাৎ জয়াসুরিয়া।

এই ম্যাচেই আরেকটি ব্যক্তিগত উচ্চতায় নাম লেখালেন কোহলি। ৫৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি! ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে যখন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে শীর্ষে চলে এসেছিলেন, ক্রিকেট বিশ্ব বুঝেছিল এই রেকর্ড ভাঙা আর কারও পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে না।

অবশ্য আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছেন জাস্টিন গ্রিভস। ১০১ রানের সেই ইনিংস ক্যারিয়ারের প্রথম হলেও শেষ পর্যন্ত কোহলির আলোতে তিনি ঢাকাই পড়ে রইলেন।