তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলেই জয় পেয়েছে ফ্রান্স। তবে উয়েফা নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচেই ব্যবধান গড়ে দেওয়া সেই শটের পরপরই ফ্রান্সের ডাগআউটে নেমে আসে শঙ্কার কালো ছায়া। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তারকা ফরোয়ার্ডকে।

নতুন জুতা পরে মাঠে নামার পর এই চোট কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্র্যান্ড পরিবর্তনের খেসারত? এমবাপ্পের হাঁটুর চোটের পর ফরাসি ফুটবলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

ম্যাচটির এক সপ্তাহ আগেই স্প্যানিশ ফিজিওথেরাপিস্ট আনহেল ভিয়ানুয়েভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। নাইকির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ করে সুইস স্পোর্টস ব্র্যান্ড অনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে জড়ানোয় এমবাপ্পের ইনজুরির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভিয়ানুয়েভা। জুতার সোল, স্টাড, কুশনিং কিংবা ওজনের সামান্য পরিবর্তন কীভাবে পায়ের বায়োমেকানিকস এবং গোড়ালি ও হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তা তাত্ত্বিকভাবে বুঝিয়েছিলেন এই বিশেষজ্ঞ।

ফ্রান্সের জার্সিতে গোল করার পরপরই হাঁটু চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এমবাপ্পে। মুখে তীব্র ব্যথার ছাপ নিয়ে ডাগআউটে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর ক্ষণিকের জন্য মাঠে ফিরলেও, শেষ পর্যন্ত শরীরের সঙ্গে লড়াই করে টিকতে পারেননি তিনি। ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের প্রাথমিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে, গোলের উল্লাসের মুহূর্তেই হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

প্রশ্ন উঠছে, গত মৌসুমের সেই পুরোনো চোট কি তবে পিছু ছাড়ছে না? ডিসেম্বরের সেই ইনজুরি এবং এলচের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই এমবাপ্পের হাঁটুতে অস্বস্তি সুপ্ত ছিল। অতীতে স্প্যানিশ ও ফরাসি গণমাধ্যমে ভুল চিকিৎসার চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। রিয়ালের মেডিক্যাল টিমের ভুলের কারণে অনেক ম্যাচে তাঁকে ব্যথা নিয়েই খেলতে হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে প্যারিসে চিকিৎসা শেষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নিজের ছন্দে ফিরেছিলেন এই মহাতারকা।

প্রায় দুই দশক ধরে নাইকির সঙ্গে পথচলার পর সুইস ব্র্যান্ড অনের সঙ্গে চুক্তি এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের এক বিশাল মোড়। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরারও। থিয়েরি অঁরির মূল ভূমিকা এবং সুইস ব্র্যান্ডটির বৈশ্বিক পরিকল্পনা ফুটবলের গ্ল্যামার-দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু নতুন বুটের ফিতা বাঁধার প্রথম রাতেই এমবাপ্পে এমন চোটে পড়বেন, তা কেউ কল্পনা করেননি।