ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল বাজার এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে গতকাল শুক্রবার রাতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলটিও দুমড়েমুচড়ে যায়।

নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী লিটন খাঁয়ের ছেলে নামিম খাঁ (১৯) এবং একই এলাকার মৃত কিসমত খাঁয়ের ছেলে নিরব খাঁ বায়জিদ (১৮)। নামিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিটি মডেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার মুদিদোকানে কাজ করতেন। অন্যদিকে নিরব শহরের এফ এ টাওয়ার বিপণিবিতানের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নামিম ও নিরব প্রায়ই রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতেন। আজ শনিবার তাদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। রাতে ঘোরাঘুরি শেষে তারা তেল ভরতে সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার একটি পেট্রলপাম্পে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রামরাইল বাজার এলাকায় একটি ট্রাকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে নামিম ও নিরব মাথা ও পায়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, "নিহত দুজনের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বর ছিল না। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে আজ সকালে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।"

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ায় নিহত দুজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় পাশাপাশি রাখা হয়েছে দুই চাচাতো ভাইয়ের লাশ। বাড়ির বাইরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেছেন। স্বজনেরা কান্নাকাটি করছিলেন।

নিহতদের চাচা আরমান খাঁ বলেন, "প্রায়ই রাতে নামিম ও নিরব মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতেন। গতকাল রাতে তেল নিয়ে সড়কে ওঠার পরপরই ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।"