ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ১৪ বছর ধরে দিদিয়ের দেশমের ডাগআউটে বসে থাকার পর এবার জিনেদিন জিদান নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফরাসি দলকে। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হলেন তুরস্কের সাথে। নতুন কোচ, নতুন শুরু—এই সূচনাতেও গোলদাতা ছিলেন পুরোনো নাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর একমাত্র গোলেই তুরস্ককে হারিয়ে জিদান-যুগের সূচনা করল ফ্রান্স।
জিদানের পরিচিত ৪-৩-৩ ফরমেশনে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছিল ফরাসি খেলোয়াড়দের। দুই বছর ধরে জাতীয় দলের বাঁ প্রান্তে খেলা এমবাপ্পের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ল। ম্যাচের শুরু থেকেই তুরস্কের দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহারায় আটকা পড়েন ফরাসি অধিনায়ক। উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসও নিজের ছায়া নিয়ে খেলতে বাধ্য হন।
ম্যাচের শুরুতে তুরস্কের চোখে চোখ রেখে লড়ার মানসিকতা ফরাসি রক্ষণকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। চতুর্থ মিনিটে ইলমাজের শট ঠেকিয়ে দেন মাইক মাইনিয়ঁ, এরপর গোললাইন থেকে বল ফেরান ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর আরেকটি জোরালো শট পাখির মতো উড়ে রুখে দেন সেই মাইনিয়ঁ। তুর্কিদের হাই-প্রেসিং ফুটবল থেকে বের হয়ে বল পায়ে রাখার প্রতিটি চেষ্টাতেই ঘাম ছুটে যায় ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঠিকই খোলস ছেড়ে বের হয় ফ্রান্স। ফাইনাল থার্ডে এমবাপ্পে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করতে লাগেন, আর মাঝমাঠে রায়ান শেরকি নিজের মতো করে জায়গা খুঁজে নিয়ে কিছু ঝলক দেখান; যদিও ফিনিশিংয়ে ছিল নিখুঁত ছোঁয়ার বড় অভাব চোখে পড়ছিল। বিরতির ঠিক আগে ওলিসের চমৎকার শটটি রুখে দেন তুর্কি গোলকিপার চাকির।
বিরতির পর তুরস্ক আবারও চড়াও হয়। তবে ম্যাচের মীমাংসাটা তখনই হওয়ার ছিল। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রেসিংয়ে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ওলিসে, আর সেখান থেকে বাঁ প্রান্তে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের কাছে। নিখুঁত শটে ফরাসি জার্সিতে নিজের ৬৭তম গোলটি তুলে নেন ফরাসি অধিনায়ক।
কিন্তু সেই আনন্দের স্থায়ীত্ব হয় মাত্র কয়েক পলক। বল জালে জড়ানোর মুহূর্তেই এমবাপ্পের মুখে ভেসে উঠে যন্ত্রণার ছাপ। বসে পড়েন মাটিতে। ৫৯ মিনিটে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, বদলি হিসেবে নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই প্রতিপক্ষের পোস্টে ভীতি ছড়িয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন এই তরুণ।
ব্যবধান বাড়ানোর নেশায় ফ্রান্স চাপ বজায় রাখে। ৬৯ মিনিটে কুন্দের শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি পেয়ে যেতে পারতেন এই ডিফেন্ডার। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা নামার পর ফরাসি আক্রমণের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত তুর্কি রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন তাঁর গতি।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৮৮ মিনিটে। বারকোলা বল নিয়ে একা ডিফেন্স ভেদ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল আটকে লাল কার্ড দেখেন তুর্কি গোলকিপার চাকির। তবে সেই সুযোগ আর নিতে পারেন না ফরাসিরা।