কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে মামলাটির তদন্ত করছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।

আজ শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, "মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। উপপরিদর্শকের পরিবর্তে পরিদর্শক (তদন্ত) দিয়ে মামলাটির তদন্ত করানো ভালো হবে—এ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি পুলিশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।"

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি মামলার নথিপত্র হাতে পাননি। তিনি বলেন, "পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের কাজ শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করবেন।"

আগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দায় স্বীকার করে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে (১৯) গ্রেপ্তারের পরই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মুঠোফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।"

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।