শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ৩০ বছর পর আয়োজিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সদর উপজেলার তেতুলিয়া থেকে আড়িগাঁও পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো দর্শনার্থী নদীর দুই পাড়ে জড়ো হয়ে এই গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে উপস্থিত থাকেন।

বিকেল ৩টায় ফাইনাল রাউন্ড শুরু হলে ১৪টি নৌকা মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার তালে নদীর বুকে ছুটতে শুরু করে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সাথে সাথে দর্শকদের উচ্ছ্বাসও চরমে ওঠে। পছন্দের দলের সমর্থনে করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের উদ্যোগে প্রথম রাউন্ড এবং ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনাল প্রতিযোগিতায় আমগ্রাম এক্সপ্রেস প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থানে আসে সাত সমাজ এক্সপ্রেস ১ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মামা ভাগ্নে এক্সপ্রেস। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আয়োজক কমিটি বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম এবং দুর্ঘটনা বা জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিম প্রস্তুত ছিল।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা সুমন ঠাকুর বলেন, "দীর্ঘদিন পর কীর্তিনাশা নদীতে এমন আয়োজন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও নানা কারণে ধীরে ধীরে এ আয়োজন কমে গেছে। প্রায় তিন দশক পর কীর্তিনাশায় নৌকা বাইচ হওয়ায় পুরোনো সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। আমরা চাই সামনে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হোক, তাহলে এটি আমাদের জন্য একটি বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।"

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌকা বাইচের মতো হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাও তাদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাঠে ফেরাতে সামনে তাদের হাডুডু টুর্নামেন্টের আয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসিরউদ্দিন কালু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার, সিরাজুল হক মোল্লা, শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, বি এম হারুন অর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল খান, মহিউদ্দিন বাদল বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম তালুকদারসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।