মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ মুক্তকণ্ঠের কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮১ তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। এইবারের বিষয়টি ছিল — ‘শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের ভূমিকা’। উক্ত আয়োজন থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
কোন লক্ষণ বা সংকেতগুলো দেখে একজন শিক্ষক বুঝতে পারবেন যে তাঁর শিক্ষার্থী কোনো মানসিক জটিলতা বা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে?
এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. ফারজানা রহমান বলেন, ‘শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই কিছু পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারেন। শিক্ষার্থী মানসিক ঝুঁকিতে থাকলে তার আচরণের কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যেমন-
প্রাণচঞ্চলতা কমে যাওয়া: আগে যে শিশুটি খুব হাসিখুশি ও প্রাণচঞ্চল ছিল, সে হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যাওয়া বা নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নেওয়া শুরু করে।
মনোযোগ ও ফলাফলের অবনতি: পড়াশোনা ও শ্রেণিকক্ষের কাজে হঠাৎ মারাত্মক অমনোযোগ দেখা দেওয়া এবং পরীক্ষার ফলাফলের ধারাবাহিক অবনতি হওয়া।
আচরণগত তীব্র পরিবর্তন: আচরণের মধ্যে অস্বাভাবিক জেদ, রাগ, অকারণে সহিংসতা প্রকাশ পাওয়া বা বন্ধুদের সাথে দূরত্ব তৈরি করা।
হতাশাজনক কথা বলা: জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা প্রকাশ করা, নিজেকে সবার জন্য ‘বোঝা’ মনে করা বা ‘বেঁচে না থাকলেই ভালো হতো’ এই ধরণের চরম হতাশাজনক কথা বলা।
শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে বিষয়টি একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।