মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ মুক্তকণ্ঠের কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮১ তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। এইবারের বিষয়টি ছিল — ‘শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের ভূমিকা’। উক্ত আয়োজন থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

শিশুর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের সময় শিক্ষকের ভূমিকা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. ফারজানা রহমান বলেন, ‘শিক্ষক হলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম প্রধান প্রেরণা। আমাদের সমাজে শিশুরা যতই জেমস বন্ড, স্পাইডারম্যান বা সুপারম্যানের ভক্ত হোক না কেন বাস্তব জীবনে তাদের প্রথম আইকন বা আইডল কিন্তু থাকেন তাদের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকগণ। বাবা-মা যত বড় সাইকোলজিস্ট, নিউরোলজিস্ট বা অর্থনীতিবিদই হোন না কেন, শিশুদের কাছে তাদের শিক্ষকের কথাই শেষ কথা। শিশুরা প্রতিদিন একটি বড় সময় প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যালয়ে পার করে। তাই এই বদলে যাওয়া সময়ে শিক্ষকের ভূমিকাও অনেক বদলে গেছে। একজন শিক্ষকই সবচেয়ে আগে বুঝতে পারেন কোনো শিক্ষার্থী ঠিক কেমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ কমার কারণটি কি কেবল আলসেমি নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা তা চিহ্নিত করার প্রথম সুযোগটি শিক্ষকের কাছেই আসে। তাই অভিভাবকের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের সচেতন ভূমিকা শিশু মনস্তত্ত্ব গঠনে সবচেয়ে বেশি দরকার।’