সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বাস্তবায়িত বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে গাছ লাগানোর হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে মেলেনি তার সুফল। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সরকারি উদ্যোগ। সঠিক তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে তাড়াশে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউপি উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে— তালম ইউনিয়নে ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা, বারুহাস, সগুনা, মাগুড়া বিনোদ ও মাধাইনগর ইউনিয়নে ৫০ হাজার টাকা করে, নওগাঁ ইউনিয়নে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা, তাড়াশ সদর ইউনিয়নে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দেশীগ্রাম ইউনিয়নে ৫০ হাজার ১০০ টাকা।

তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে মারাত্মক অনিয়মের চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানরা গাছের চারা কেনা, প্লাস্টিকের খাঁচা ও খুঁটিসহ রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রীর অতিরিক্ত বাজারদর দেখিয়ে ভুয়া ভাউচার তৈরি করেছেন। এছাড়া বাজেটে ১২৫টি চারার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি নিম্নমানের চারা। এসব চারা আকারে অতি ক্ষুদ্র, রোগাক্রান্ত ও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার অনুপযোগী হওয়ায় রোপণের কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক মুক্তকণ্ঠকে জানান, প্রতিটি গাছের চারা, প্লাস্টিকের খাঁচা, খুঁটি ও পরিচর্যা খরচসহ ধরা হয়েছিল ৪০৫ টাকা।

প্রকল্পের বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও স্পষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে। তালম ও মাধাইনগর ইউনিয়নের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, তালম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন তার নিজ ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ করেছেন। আর মাধাইনগর ইউনিয়নে কোথায় গাছ লাগানো হয়েছে, তা শুধু চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বলতে পারবেন। তারা আমাকে কিছুই জানায়নি।

সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি ভুট্টু বৃক্ষরোপণের দাবি করলেও কতগুলো চারা লাগানো হয়েছে তার সদুত্তর দিতে পারেননি।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাকের কাছে চারা রোপণের তথ্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে সরাসরি দেখা করার কথা বলেন।

অন্যদিকে বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী রবিন হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গাছ বিতরণের সঠিক সংখ্যা এই মুহূর্তে মনে নেই। বিস্তারিত জানতে পরিষদে আসতে হবে।

পুরো বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।