প্রতিভার অভাব নেই ব্রাজিলে। তবে সেই প্রতিভাদের বিকাশের পথে একটি সমস্যা দেখছেন কার্লো আনচেলত্তি। অল্প বয়সেই ইউরোপে পাড়ি দেওয়া অনেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। ব্রাজিল কোচের মতে, ইউরোপে যাওয়ার আগে নিজ দেশেই আরও বেশি ম্যাচ খেলতে পারলে তরুণদের উন্নতির পথটা সহজ হতো।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রাজিলের নতুন প্রজন্ম তৈরিতে জোর দিয়েছেন আনচেলত্তি। সেই পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তরুণদের দ্রুত ইউরোপমুখী হওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন ইতালিয়ান কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আদর্শ পরিস্থিতি অবশ্যই এমন হতো, প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা এখানে আরও কিছুটা বেশি খেলবে। তাহলে ইউরোপে গিয়ে যখন প্রতি ম্যাচে খেলার জায়গা পায় না, তার তুলনায় তারা দ্রুত উন্নতি করতে পারবে।’
তরুণ ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ব্রাজিল কোচ। জাতীয় দল কোনো খেলোয়াড়ের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে, তবে প্রতিদিনের বিকাশের মূল দায়িত্ব ক্লাবেরই বলে জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর সঙ্গে এই জায়গায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপের পর প্রথম দল ঘোষণাতেও সেই ভাবনার প্রতিফলন দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আটজন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ফুটবলারকে দলে ডেকেছেন আনচেলত্তি। তার লক্ষ্য এখন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখে নেওয়া এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য নতুন প্রজন্ম তৈরি করা।
তবে সমস্যা হচ্ছে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত কিছু ফুটবলার ক্লাবেই নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। সেপ্টেম্বরের দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাদের এমন খেলোয়াড় আছে, যাদের আমরা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ মনে করি, কিন্তু তারা খেলছে না। তাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা না খেললে আমাদের তাদের খেলার এবং উন্নতি করার সুযোগ দিতে হবে।’
ব্রাজিলের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে এর আগে এস্তেভাও, রায়ান, এন্দ্রিক ও ভিতর রেইসের কথা বলেছেন আনচেলত্তি। পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান লিগে আরও অনেক তরুণকে নজরে রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তাই নতুন চক্রে শুধু বয়স কম হওয়াই ব্রাজিল দলে জায়গা পাওয়ার মাপকাঠি নয়। প্রতিভাবানদের নিয়মিত ম্যাচ খেলা, উন্নতির সুযোগ পাওয়া এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি।