‘বিগ বস বাংলা ৩’-এ ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের শেষ ধাপে অভিনেত্রী সৃজলা গুহের পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই সময় ও টিভিতে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে একটি কৃত্রিম ঘোড়ার ওপর বসে থাকা প্রতিযোগীদের মধ্যে মনামী ঘোষ, তনুশ্রী, জিতু কমল এবং রাজবীরও ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কৌশলে ঘোড়া থেকে নামাতে হতো, তবে শারীরিক আঘাত করা যাবে না।
এই প্রক্রিয়ায় নন্দিনী দত্ত সৃজলাকে নামানোর চেষ্টা করেন। প্রথমবার সৃজলা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকলে দুর্নিবার সাহা তাকে সামলে দেন। কিন্তু পরে নন্দিনী আবার ধাক্কা দিলে সৃজলা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এতে তাঁর নাকসহ মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে চোট লাগে। যন্ত্রণায় কাঁদতে দেখা যায় সৃজলাকে। এরপর টাস্কটি থামিয়ে তাঁকে মেডিক্যাল রুমে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকেই সৃজলার অনুরাগীরা উদ্বেগে আছেন। তাঁর অফিশিয়াল টিম সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, "আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন অভিনেত্রী। চোটের কারণে তাঁর শরীরে এখনো যথেষ্ট যন্ত্রণা রয়েছে।" বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নন্দিনীর আচরণ কি শুধুমাত্র টাস্কের উত্তেজনায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা, নাকি তিনি নিয়মের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন—এ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে নন্দিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পক্ষ থেকে পরে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, "ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।"
এই ঘটনায় শিল্পী মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী সিনহা ফেসবুক পোস্টে নন্দিনীর আচরণের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, সৃজলার সাবেক সহশিল্পী শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কারও নাম না নিয়ে লেখেন, "ঘটনাটি আমার কাছে বিরক্তিকর, অমানবিক এবং লজ্জাজনক।" যদিও শন সরাসরি উল্লেখ করেননি যে তাঁর পোস্টটি সৃজলার ঘটনার প্রেক্ষিতেই, নেটিজেনদের একটি অংশ এটিকে ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।