খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে এ উপহার বিতরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি এবং ৯০ জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য মোট ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯৩ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোট ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই বৃত্তি কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হবে।
এছাড়াও, সদর উপজেলার ১০ জন নারীকে সরাসরি ১০টি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, খাগড়াছড়ি জানিয়েছে যে, পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি নয়টি উপজেলায় ৯০ জন নারীকে মোট ৯০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে। এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, "শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।"
সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটির ভাইস-চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা।
বক্তারা জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপকারভোগী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।