স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা থেকে মনে হচ্ছে কমিশন আগামী বছর থেকেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার কথা বলেছে।" এরপর তিনি যোগ করেন, "নির্বাচন কমিশন আগামী বছর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে তার মনে হচ্ছে।"
সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর স্থানীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, "এ ব্যাপারে জ্বালানিমন্ত্রী তার বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি ছোট করে বলতে চাই, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। আর নির্বাচনের দিনক্ষণ যেহেতু নির্বাচন কমিশন ঠিকেনি। তারা প্রথমে একটা তারিখ নির্ধারণ করে পরবর্তীতে বলেছে যে ৬ জুনের মধ্যে তারা নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায়।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "নির্বাচন যেহেতু আরও দেরি আছে, আমরা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনো দেরি আছে। তাই এ মুহূর্তে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী—তা বলা কঠিন; নির্বাচনের সময় হলেই কেবল তা বোঝা যাবে।"
তিনি জানান, সরকারকে অবহিত না করে আগে নির্বাচন কমিশন তারিখ ঘোষণা করেছিল। বিষয়টি তুলে ধরার পর কমিশন সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে। রমজান, এসএসসি এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার কারণে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে ভোটের সঠিক তারিখ এবং মোট খরচের বিষয়টি জানায়নি।
বরাদ্দ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এর আগেও বলেছি যে, তারা একটা টেন্টেটিভ হিসাব দিয়েছে, ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে এই পাঁচটি নির্বাচন শেষ করতে। আমরা মোটামুটি এই পরিমাণ অর্থ যাতে আমরা দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের রাখা আছে। এটা প্লাস-মাইনাস হতে পারে, তারা একটা সম্ভাব্য হিসাব আমাদের কাছে দিয়েছে।"
তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, "সেখানে প্রায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে আমাদের খরচ হবে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, উপজেলা নির্বাচনে লাগবে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই দুইটা নির্বাচনেই বড় খরচ। আর বাকি পৌরসভা ৩৩০টা পৌরসভা, সিটি করপোরেশন মাত্র ১৩টি। এগুলোতে খরচের পরিমাণ অনেক কম বলেও জানান তিনি।"
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশন এই মাসের শেষে বা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি মিটিং করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে থাকবে।" সরকারের পক্ষে তিনি শুধু এটাই চেয়েছেন যে, নির্বাচনগুলো চলতি অর্থবছরের মধ্যে শেষ হোক। শুরু ও শেষের তারিখ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।