নবম জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও একটি সুখবর এসেছে। সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) এবং প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ)-এর জমার মুনাফার হার নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তহবিলের স্থিতির ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-১ শাখা গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতে জিপিএফের স্থিতি ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। যদি স্থিতি ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে হয়, তবে মুনাফার হার ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে তা ১১ শতাংশ হবে। একই স্ল্যাব অনুযায়ী, অর্থবছরে জমা হওয়া চাঁদার ওপরও এই হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, প্রারম্ভিক স্থিতির পরিমাণ বিবেচনায় জমার ওপর যথাক্রমে ১৩, ১২ বা ১১ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে।
সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা সব সমান নয়। তাই স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত হারকে সর্বোচ্চ সীমা ধরে কর্মচারীদের জন্য মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। তবে এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
জিপিএফ হলো সাধারণ ভবিষ্য তহবিল, যেখানে সরকারি কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে অর্থ জমা রাখেন। অন্যদিকে সিপিএফ হলো প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল, যা সাধারণত এমন প্রতিষ্ঠানে চালু থাকে, যেখানে প্রচলিত সরকারি পেনশনব্যবস্থা নেই। অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় নির্ধারিত নতুন মুনাফার হার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এর আগে সরকার নতুন জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন পাবেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। বাকি অংশ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।