চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার উৎসাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ করছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন বিধান অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ছাড় পাবেন করদাতারা। তবে এই বিধানে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনে বলা হয়েছে, "রিটার্ন দাখিলের সময় যত টাকা কর পরিশোধ করা হবে তার ওপর ৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ পুরো বছরের মোট করের ওপর এই ছাড় হিসাব করা হবে না।" এর ফলে যেসব করদাতা জুনের আগেই অগ্রিম কর, পে রোল ট্যাক্স বা অন্য মাধ্যমে আগাম আয়কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা এই করছাড় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের একজন আয়কর কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মূলত আগে রিটার্ন জমায় উৎসাহ দিতে এই বিধান করা হয়েছে। কিন্তু এতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সংশোধিত কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
আয়কর আইনজীবীদের মতে, নিয়মিত কর পরিশোধকারী করদাতাদের সঙ্গে অন্যান্যদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁদের যুক্তি হলো, রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর করছাড় না দিয়ে, একজন করদাতার সারা বছরের মোট করের ওপর ছাড় হিসাব করা হলে সমস্যাটির সমাধান সম্ভব।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। গত অর্থবছরে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা হয়েছিল।
এদিকে প্রতিটি করদাতার রিটার্নের জন্য একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করছে এনবিআর। করদাতার কত টাকা কর পরিশোধ করেছেন এবং কত টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে, তার হিসাব এই প্রোফাইলে থাকবে। একজন কর কর্মকর্তা জানান, অনলাইন ব্যবস্থায় করদাতারা রিটার্ন দাখিল করবেন। তাই করদাতার কর পরিশোধের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখতে ডিজিটাল প্রোফাইল প্রয়োজন। করছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রোফাইলের তথ্য কাজে লাগবে।