ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ধলিয়া ইউনিয়নের একটি সরকারি সড়ক উন্নয়ন কাজকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতনের মধ্যকার বিরোধ ও বাগবিতণ্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত সাংগঠনিক চিঠিতে জানানো হয়, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব নবীর নেতৃত্বে এই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—জুডিশিয়াল অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী এবং কফিল উদ্দিন মামুন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "যেহেতু জেলা বিএনপির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগ এসেছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা বিএনপি এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সোমবারিয়া বাজার-আব্দুর রব মেম্বার সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর লোকাল গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এলজিইডি) ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এর পুনর্নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করে। গত এপ্রিল মাসে মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান রতন ওই কাজের কার্যাদেশ পান।
ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতনের দাবি, কাজ শুরু করার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ তার কাছে ৫ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও শহরের এসএসকে সড়ক ও বালিগাঁও এলাকায় তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর শনিবার রাতে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ঠিকাদার রতন। এরপর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তিনি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদলের আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। ধলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুল হকসহ স্থানীয়রা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।