জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প’। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০৩২ সালের জুনে শেষ হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শেখার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রকল্পটির যৌক্তিকতা হিসেবে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সহায়তা প্রদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষা উন্নয়ন এবং সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক গড়ে তোলা অন্যতম।
মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পৃথকভাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিরূপণের জন্য এই সমীক্ষা চালানো হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করতে চায় মাউশি। সমীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মূল প্রকল্পের চূড়ান্ত বাজেট ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নির্ধারণ করা হবে।