আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) ‘স্টেট অব দ্য রাইনো’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে বিশ্বের অবশিষ্ট পাঁচটি গন্ডার প্রজাতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে যে, তিনটি প্রজাতির ক্ষেত্রে ধীরে হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গত ২৫ বছরে ভারত ও নেপালে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্ল্যাক রাইনো বা কালো গন্ডারের সংখ্যা গত দুই দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হোয়াইট রাইনো বা সাদা গন্ডারের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যের কারণে তা হ্রাস পেয়েছে।

আইআরএফ-এর নির্বাহী পরিচালক নিনা ফ্যাসিওনে বলেন, "একশৃঙ্গ গন্ডারের এই ফিরে আসা সংরক্ষণ ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে বড় অর্জন সম্ভব, তা এই সাফল্য প্রমাণ করে।"

তবে ইন্দোনেশিয়ার দুটি গন্ডার প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে এক শটিরও কম জাভা গন্ডার বেঁচে আছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চোরা শিকারিদের কারণে ১৮ থেকে ২৬টি জাভা গন্ডার মারা গেছে। সুমাত্রা গন্ডারের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়; বর্তমানে মাত্র ৩৪ থেকে ৪৭টি সুমাত্রা গন্ডার অবশিষ্ট রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে বর্তমানে ৩৭ হাজারের কম গন্ডার রয়েছে। পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি বর্তমানে মহাবিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই বিষয়ে নিনা ফ্যাসিওনে বলেন, "সুমাত্রা ও জাভা গন্ডার অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অপর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার চোরা শিকারিদের কারণে সাদা গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।"

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধনসম্পদের প্রতীক হিসেবে এবং বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণে গন্ডারের শিংয়ের অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, গন্ডারের শিং মূলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি, যা মানুষের চুল ও নখের উপাদানের মতোই। ফলে এই শিংয়ের কোনো প্রমাণিত ঔষধি গুণ নেই।