টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এই রায় দেন। রায় অনুযায়ী, খান পরিবারের সন্তান সানিয়াত খান (বাপ্পা)সহ তিন আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম সানিয়াত খান। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের পুত্র এবং একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান (রানা)-এর ভাই সানিয়াত। তার সাথে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরও দুই আসামি হলেন টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার মো. আজাদ এবং সদর উপজেলার শ্রীফলিআটা গ্রামের মো. শাজাহান মিয়া। আদালত প্রত্যেক ফাঁসিপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সরদ উপজেলার কাঠুয়া যোগিনী গ্রামের মো. সুজন, শ্রীফলিআটা গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেন, ছিটকি বাড়ি গ্রামের রুজবেল ওরফে ইমন এবং শহরের উত্তর কাগমারা এলাকার শফিকুল ইসলাম। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মো. সুজন ও সানোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। মামলার অন্যতম আসামি সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রাতর্ভ্রমণে বের হন। সকাল ছয়টার দিকে শহরের বটতলা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন রফিকুলের ভাই মো. লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তারা। তাদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদেরকে দিয়ে রফিকুল ইসলামকে হত্যা করিয়েছেন।