আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবলে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুনদের দল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে এবং শক্তির দিক থেকেও উন্নত মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুতে একটু বেশি আশাবাদী ছিলেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। তবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তারা ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। ইতিহাস বলছে, এর আগে বাংলাদেশ যখন মিয়ানমারের মুখোমুখি হয়েছিল, জয়-হার সমান ছিল। আজকের ম্যাচের ফলাফলও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সরাসরি পথ আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে শেষ আটে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা থেকে যেত। কিন্তু গোলশূন্য ড্রয়ে সেই স্বপ্নও ভেঙে গেল।
খেলায় বল দখলের দিক থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল না। ম্যাচে ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল মেয়েরা। তবে আক্রমণে তা কার্যকর হয়নি। পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের গোলমুখে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
অন্যদিকে, মিয়ানমার বাংলাদেশের গোলমুখে আটটি শট নিয়েছে, যার মধ্যে দুটি লক্ষ্যে এসেছিল। তবে দুটিই দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার রুপনা চাকমা। তাই গোলশূন্য ড্রয়ের এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রধান সাফল্য ছিল কোনো গোল হজম না করা।
এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হারে বাংলাদেশ।
এটি দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ২০২৩ আসরেও ফল ছিল তিন ম্যাচে দুই হার ও এক ড্র। সে বার মোট গোল হজম ছিল ১৫টি, যা এবারের চেয়ে একটি বেশি।