কানাডায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিটের আর্থিক যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়মে নতুন অঙ্ক কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুইবেক বাদে কানাডার সব প্রদেশ ও অঞ্চলে এক বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে ন্যূনতম ২৩ হাজার ৪৪৮ কানাডিয়ান ডলার দেখাতে হবে আবেদনকারীদের। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫৪ টাকা (১ কানাডিয়ান ডলার = প্রায় ৮৭ দশমিক ৭৭ টাকা)। আগের তুলনায় এই খরচ কিছুটা বেড়েছে।

এই অর্থের মধ্যে টিউশন ফি ও যাতায়াতের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ এই ডলারের বাইরে শিক্ষার্থী বা তাঁর মা–বাবার অ্যাকাউন্টে এক বছরের টিউশন ফি ও যাতায়াত ভাড়া আলাদাভাবে থাকতে হবে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের (সাধারণত স্পাউস ও নির্ভরশীল সন্তান) সঙ্গে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও বাড়বে। যেমন—একজন শিক্ষার্থী স্বামী বা স্ত্রী ও একজন সন্তানসহ কানাডায় এলে মোট তিনজনের জন্য এক বছরের জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে ৩৫ হাজার ৮৮৮ ডলার দেখাতে হবে। এর সঙ্গে টিউশন ফি ও কানাডায় আসা–যাওয়ার পরিবহন খরচের অর্থও আলাদাভাবে দেখাতে হবে।

শিক্ষার্থীর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই পুরো অর্থ থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বাবা বা মা যদি পড়াশোনার খরচ বহন করেন, তবে তাঁদের আর্থিক নথি ব্যবহার করা যাবে। আইআরসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্থ সহায়তাকারী ব্যক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, তাঁর পেশা বা আয় এবং কত অর্থ সহায়তা করবেন—এসবের প্রমাণ দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব ডকুমেন্ট দরকার হতে পারে: বাবা বা মায়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট; চাকরি থাকলে চাকরির প্রমাণ ও বেতনসংক্রান্ত নথি; আয়কর বা অন্যান্য আয়–সংক্রান্ত নথি; মা–বাবা কেন এবং কত অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীকে সহায়তা করবেন, সে বিষয়ে সাপোর্ট বা আন্ডারটেকিং লেটার; মা–বাবার সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কের প্রমাণ, যেমন জন্মনিবন্ধন; শিক্ষার্থীর নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট; টিউশন ফি পরিশোধ করা হলে তার রসিদ।

আইআরসিসি বর্তমানে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ অর্থের উৎসও অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাচাই করে। তাই হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে সেই টাকার উৎসের যথাযথ ব্যাখ্যা ও নথি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আইআরসিসি সাধারণভাবে গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট গ্রহণযোগ্য প্রমাণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কোর্স এক বছরের বেশি হলে শুধু প্রথম বছরের অর্থ দেখালেই চলবে না। আবেদনকারীকে পুরো কোর্সের সময় কীভাবে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ চালাবেন, তার পরিকল্পনাও দেখাতে হবে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন।