কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাদী হয়ে তিনি কুমারখালী থানায় এজাহার দেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি ও কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আহসান উল্লাস এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের বডিগার্ড রুহুল আমিনের নাম উল্লেখ করেন। অন্য আসামিদের মধ্যে এমপি আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন, ছেলে শোভন হোসেন, মারুফ হোসেন, মো. লিটন হোসেন, মো. আল আমিন, সোহান, আল আমিন, সাব্বির, মো. আমিরুল ইসলাম ও সাদিকের নাম রয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক উল্লাস। এর আগে বাংলা টিভিতে এই বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। শনিবার সকালে ইউএনও ও চলতি দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্তে যান এবং সাংবাদিক উল্লাসকেও ডেকে নেওয়া হয়।

ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার প্রায় ৫০ মিনিট পর সাংবাদিক উল্লাস তার ক্যামেরাপার্সন সাকিব আল হাসান, এনটিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়ন হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করতে যান। এ সময় একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়।

উল্লাস অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বেকি, রামদা, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত হানে। এতে তাঁর মাথা ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও নীলাফোলা জখম হয়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন, যাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ওই সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের হত্যাসহ গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও এজাহারে উঠেছে।

হামলার পর আহত সাংবাদিক উল্লাসকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাংবাদিক উল্লাসের অভিযোগ, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।