রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে পৃথকভাবে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (সিটিটিসি) দাবি, ওই আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপের ‘মিট আপ’ গ্রুপের মাধ্যমে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত আজ শনিবার এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ আদালতে হাজির হয়ে ১২ আসামিকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিটিটিসির রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল শুক্রবার গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের মসজিদে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ২৩ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা মোবাইল ব্যবহার করে আসামিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল, সিম কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আদালতে জানানো হয়।

রিমান্ডের আসামিরা হলেন শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাশ্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওমি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)। আসামিদের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় এবং সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পুরোনো মামলা রয়েছে।

ডিএমপির সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আটক ২৩ জনের মধ্যে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১২ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। এই ১২ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অন্যদের তেমন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁদের শেরেবাংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।"

অন্যদিকে, শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তথ্য যাচাই শেষে ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" আটকদের মধ্যে বাকি একজনকে এখনও পর্যন্ত ছাড়ানো হয়নি বা তার অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।