রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে মারা যান ওই তরুণী। এক কিলোমিটার দূরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার চার দিন পর এই ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, তিনি দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তবে পুলিশ এখনো বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি।

হাসপাতালের ছাড়পত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাত উল্লেখ করা হয়েছে। আজ দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর বিয়ে একই এলাকার বখতার আলীর সঙ্গে হয়েছিল। চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বখতার আলীসহ অন্তত চারজন ব্যক্তি তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ওই তরুণীর ভাই জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাসেল নামের এক যুবক মোটরসাইকেলে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত আটটার দিকে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাঁর বোন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা হাসপাতালে ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য অনুরোধ জানালে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকেরা জানান, সেখানে এর সুযোগ নেই। তাঁদের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই মৃত্যু ঘটে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, "ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা দলবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি বলছেন। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক স্বামী বখতার আলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে মামলা করা হবে, সেভাবে গ্রহণ করা হবে।