বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মহাসচিব মামুনুল হক সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি জনগণ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তবে তাদের আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সরব হয়ে বলেন, "সংবিধান সংস্কার করবেন। সংশোধনের নামে ধূম্রজাল বাংলার মানুষ মানবে না। বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখাবার চেষ্টা করবেন না। গণভোটের গণরায় কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের আর কোনো পথ নেই। বগুড়ার পথসভায় মানুষের এই উপস্থিতি সেটিই প্রমাণ করেছে। জনগণের গণরায়কে যারা অবজ্ঞা করার চেষ্টা করে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখায়।"

ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের গণরায়কে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছিল, যা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর পরিণতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের মানুষ ‘ছক্কা পিটিয়েছে’ এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, আমরা ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান, বগুড়ার সন্তান তারেক রহমান সাহেব, আমরা আপনার ওই রকম পরিণাম দেখতে চাই না।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে এবং সংবিধান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে এবং জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে গেলে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলার মানুষ তাদের ক্ষমতার মসনদে কোনো গাদ্দার সরকারকে দেখতে চায় না।

আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে তিনি জানান, তাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় দফায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো রংপুরগামী লং মার্চ হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই শান্তিপূর্ণ লং মার্চ চলবে। এর মধ্যে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভার শেষে মামুনুল হক বলেন, আজকে আমরা আট দফা দাবি নিয়ে লং মার্চ করছি। বারবার আমরা বলছি, যদি আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, আট দফা এক দফায় পরিণত হবে, ইনশা আল্লাহ।